গনগনি বাংলার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন
গনগনি আমাদের পশ্চিমবঙ্গের একটি দর্শনীয় পর্যটন স্থান। যার অবস্থান পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা ব্লকে। গড়বেতা রেল স্টেশনের অনতিদূরেই। পশ্চিমে রেল স্টেশন, পূর্বে বাসস্ট্যান্ড।
গনগনিকে বাংলার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন বলা হয়। এই গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন আসলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনা অংগরাজ্যে অবস্থিত। কলোরাডো নদী দ্বারা খোদাই করা এই গিরিখাত বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত ভূমিরূপ। তারই একটি মিনিয়েচার সংস্করণ বলা যেতে পারে এই গনগনিকে। অদ্ভূত অদ্ভুত ভূমিরূপ তৈরি হয়েছে এখানে। অদ্ভুত সব ভাস্কর্য তৈরি হয়েছে গোটা গনগনি জুড়ে।
কোথাও দেখবো একটা প্রাচীন গুহা, কোথাও দেখবো পিরামিড, কোথাও দেখবো বৈদিক স্তুপ, কোথাওবা প্রাচীন স্তম্ভ, আবার কোথাও মনে হবে যেন একটি প্রাগৈতিহাসিক প্রাণী যেন শুয়ে আছে। কোথাও আবার গিরিখাত। সেই গিরিখাতের মধ্য দিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতাও পাবে পর্যটকরা।
গনগনির যে ভূমি রূপ তাকে বলা হয় ব্যাড ল্যান্ড। মাটির উপরের ভাগ কঠিন ল্যাটেরাইটের স্তর এবং নীচে বালি কাদা মিশ্রিত কোমল স্তর অবস্থান করে। বহু বছর আগে কাঁকুড়ে কোমল স্তরের উপর ক্রমান্বয়ে ঋতুগত ভৌমজল স্তরের ওঠানামায় আদ্রতা ও শুষ্কতার প্রভাবেই তৈরি হয়েছে এই ল্যাটেরাইট। উলম্বভাবে নেমে আসা নালী প্রণালী গুলো সহজেই কোমল স্তরকে ক্ষয় করে। এইভাবেই ক্ষয় হতে হতে গনগনির এই ভূমিরূপ তৈরি হয়েছে। যা বাংলার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন নামে পরিচিত। পাশেই বয়ে চলেছে শিলাবতী বা শিলাই নদী। এই নদীও এই অঞ্চলের একটা বড় আকর্ষণ।
গনগনি এখন একটি পিকনিক স্পট হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। যে কোনোদিন সেখানে পিকনিক করা যেতে পারে। গাড়ি নিয়ে গেলে তারজন্য সামান্য একটা পার্কিং ফি দিতে হয়। পাশেই আছে একটি ওয়াচ টাওয়ার এবং পার্ক। এর জন্য ৫ টাকা এন্ট্রি ফি দিয়ে ঢুকতে হয়। ওয়াচ টাওয়ার থেকে ভালো সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখা যায়। এই দুটো সময়ে গনগনির রূপ পুরোপুরি বদলে যায়। সোনালী আভায় আলো ছায়ায় গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন এর রূপে মন ভরে ওঠে এক আনন্দে।
পাশেই রয়েছে গনগনি সরকারি রিসর্ট। যদিও এটি কয়েকজন উদ্যোগী সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়ে পরিচালনা করছেন। রাত্রি যাপনের জন্য আছে বিলাসবহুল কর্টেজ। এসি এবং নন এসি। কর্তৃপক্ষর কাছে জানা গেল এসি ৩৫০০ টাকা এবং নন এসি ৩০০০ টাকা প্রতিদিনের ভাড়া। এছাড়াও ডরমিটরিও আছে যেখানে ১০ জনের থাকার বন্দোবস্ত আছে। প্রতি বেড ৫০০ টাকা। রয়েছে একটি রেস্টুরেন্ট। যেখানে দুপুরের এবং রাতের খাবার ব্যবস্থা। খাবারের কোয়ালিটিও বেশ ভালোই।
গনগনি ছাড়াও গড়বেতায় আরো কয়েকটি স্থান আছে যেখানে পর্যটকরা একটু ঘুরে দেখে নেয়। সেইসব নিয়ে আরো একদিন আলোচনা করা যাবে।




Comments are closed