বুধবার - ২৯ আশ্বিন ১৪২৭ - ১৪ অক্টোবর ২০২০ - Oct 24, 2020
   নারী

পরিবহন সংকটে নারীর ভোগান্তি

পরিবহন সংকটে নারীর ভোগান্তি
চলন্ত বাসে এ রকম দৃশ্য প্রায় সময়ই দেখা যায়


নারী ডেস্ক | কাছেদূরে ডটকম

ইলা মুৎসুদ্দি :

বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে এসে নারীদের যেখানে স্বস্তি আর শান্তি পাওয়ার কথা, সেখানে বরং নারীরা প্রতি পদে পদে দুর্ভোগে পড়ছেন। নারী শিক্ষার হার বাড়ছে, বাড়ছে নারীদের ঘরের চার দেয়ালের বাইরে গিয়ে কাজ করার সুযোগ। আজকাল বাসাবাড়ীতে কাজ করার জন্য কোন কাজের বুয়া সহজেই পাওয়া যায় না। 

কারণ গৃহপরিচারিকা হিসাবে কাজ করে নিজেকে ছোট করে রাখতে আর কেউ রাজী নন। প্রয়োজনে পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানে রাত ৯টা-১০টা পর্যন্ত ডিউটি করবে সেও অনেক ভাল। সেখানে অন্তত মানসিক নির্যাতনটা কম থাকবে। গৃহপরিচারিকা হিসাবে কাজ করলে বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হয়। তার চাইতে চাকুরী করলে অনেক ভালো। এভাবে অশিক্ষিত, স্বল্প শিক্ষিত থেকে উচ্চশিক্ষিত সকল নারীরাই এখন সকাল হলেই বেরিয়ে পড়ে কর্মস্থলে যাবার উদ্দেশ্যে। বাইরে বের হলেই শুরু হয়ে যায় পরিবহন নিয়ে নানা ধরণের সমস্যার সন্মুখীন। কারণ মহিলাদের জন্য আলাদা এবং পর্যাপ্ত বাস সার্ভিস বা কোন ধরণের পরিবহন সার্ভিস চালু নেই।

আমরা নারী উন্নয়নের কথা বলি, নারীদের অগ্রগতির কথা বলি কিন্তু এক জায়গায় এসে নারীরা খুব বেশী সমস্যার সন্মুখীন হচ্ছে যেটার দিকে আমরা আলোকপাত করিই না বলতে গেলে। সেটা হচ্ছে নারীদের যাতায়াতের জন্য পরিবহন সমস্যা। প্রশ্ন আসতে পারে কিরকম সমস্যা? হ্যাঁ যদি বলা হয় নারী পুরুষের তো সম-অধিকার। তাহলে পুরুষদের সাথে একই বাসে, ট্রামে, টেম্পুতে যাতায়াত করলে সমস্যা কোথায়?

সমস্যা শুধুমাত্র এক জায়গায় মানবতাবোধ যাকে বলা হয় সুবিবেকের অনুপস্থিতি। দেখা যায় একজন মহিলা কিংবা একজন ষ্কুল কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সকালে ট্রেন মিস করবে বলে তাড়াহুড়ো করে বাসে উঠতে গেল। অথচ দেখা গেল, মহিলা সিটে পুরুষ যাত্রী বসে আছে। বাসের হেল্পার বলছে, মহিলা সিট নাই। আর পুরুষরাও নির্লজ্জের মতো বসে আছে। একবারও বলবে না যে, আমরা উঠে যাচ্ছি, মহিলাটিকে বাসে নিয়ে নাও।

উল্টোটাইও হয় প্রায় সময় সঠিক সময়ে অফিসে কিংবা কলেজ, ইউনিভার্সিটিতে পৌঁছার জন্য সিট নাই জেনেও মহিলারা জোর করে গাড়ীতে উঠতে বাধ্য হয়। সেখানেও দেখা যায় পুরুষরা অবলীলায় মহিলা সিটে বসে আছে, সিট ছাড়ছেন না। আমি বুঝি না, মহিলাদের প্রতি এত অবিচার কেন? মহিলারাও তো মানুষ। পুরুষদের যেমন নির্বিঘ্নে চলাফেরা করার অধিকার আছে, তেমনি নারীদেরও আছে। তাহলে প্রতি পদে পদে নারীরা এত অবহেলিত কেন? যে কোন বাসে দেখা যায় মহিলাদের জন্য সিট থাকে মাত্র ১০টি। আর টেম্পুতে তো কোন মহিলা সিটও নাই।

যেমন: রোজিনা বেগম - কাজ করে একটি পোশাক  কারখানায়। সকাল ৭টায় বের হয়ে যায় বাসায় ফিরে রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে। রোজিনার ভাষায় প্রতিদিন অফিসে যাওয়া আসা করতে পরিবহন সংকটের কারণে গাড়ী পাওয়া একে তো দুষ্কর হয়ে যায়। পক্ষান্তরে গাড়ীতে উঠতেও অনেক সমস্যা। এতগুলো পুরুষ মানুষকে ঠেলে গাড়ীতে উঠা স্বর্ণজয়ের মতো ব্যাপার হয়ে গেছে। তার উপর আছে নারী বলেই বিভিন্ন ভাবে লাঞ্চনার শিকার হতে হয়। রাত্রিবেলা অফিস থেকে আসার সময় গাড়ীতে উঠলে শুনতে হয় নানা রকমের বাজে মন্তব্য। ভাবখানা এমন যেন ইচ্ছে করেই আমরা রাত্রিবেলা গাড়িতে উঠেছি। আমাদের ন্যূনতম সম্মান দেয়ার কথাও ভাবে না।

রেজওয়ানা বেগম - একটি বেসরকারী ব্যাংকের কর্মকর্তা। তিনি বলেন, মহিলাদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালু করা খুবই জরুরী। নাহলে দিনের পর দিন নারী নির্যাতনের মাত্রা বেড়েই যাবে পরিবহন সংকটের কারণে। একইসাথে তাড়াহুড়ো করে উঠতে গেলে পুরুষেরা ইচ্ছে করে গায়ের সাথে ধাক্কা দেয়, কেউবা পিঠে হাত দিয়ে বসে। এভাবেই নারীরা লাঞ্চনার শিকার হচ্ছে প্রতিদিন। তার উপর গাড়ীতে উঠে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত সিট আছে মাত্র ৮/১০টি। এইজন্য বেশিরভাগ মহিলাকে দাড়িয়েই থাকতে হয়।

মূল কথা হচ্ছে নারীদের জন্য আলাদা পরিবহন সার্ভিস খুবই প্রয়োজন। কারণ বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ মহিলাই কর্মজীবি। পাশাপাশি গৃহিনীরাও প্রতিদিন বের হচ্ছে বাচ্চাদের ষ্কুলে আনা নেওয়ার জন্য। প্রতিদিন দেখা যায় ষ্কুলের বাচ্চাদের নিয়ে মহিলারা ঘন্টার পর ঘন্টা বাস ষ্টপেজে বাধ্য হয় দাড়িয়ে থাকতে। কারণ বাচ্চা নিয়ে যে কোন গাড়ীতে উঠা যায় না।

আরেকটি লক্ষ্যণীয় ব্যাপার, পোশাক শিল্পের মহিলা কর্মীদের জন্য আলাদা কোন বাস সার্ভিস নেই। গুটিকয়েক কোম্পানীর নিজস্ব গাড়ী আছে তাও কর্মচারীর তুলনায় অপ্রতুল। বাসগুলো খুবই ছোট যেখানে মহিলাদের গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে যেতে হয়। অনেককেই দেখা যায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দরজায় বাসের হেলপারের সাথে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যেতে। খুবই অবমাননাকর দৃশ্য যেখানে পুরুষদের দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হয় সেখানে নারীদের এভাবে কষ্ট করে অফিসে যাওয়া। পোশাক শিল্পের মালিকরা একটু সুদৃষ্টি দিলেই কিন্তু এই সমস্যার সমাধান হয়। যেমন ৪০ সিটের বাসের পরিবর্তে ৬০ সিটের বাস দেয়া যেতে পারে যাতে করে অনায়াসে নারী কর্মচারীরা অফিসে যাওয়া আসা করতে পারে।

এতকিছুর পরেও মহিলারা তো আর ঘরে বসে নেই। তারা কর্মস্থলে যাচ্ছে বাসে কিংবা টেম্পুতে চড়ে। গেলে কি হবে? শারীরিক এবং মানসিকভাবে শান্তি তো পাচ্ছে না। বেশীরভাগ সময়ই দেখা যায়, একজন মহিলা বাসে উঠতে যাচ্ছে, তাকে হেল্পার দ্বারা লাঞ্চিত হতে হচ্ছে। আবার বাসে উঠেও শান্তি নাই। কতগুলো ভদ্রবেশী মুখোশধারী লোকের দ্বারাও মহিলারা লাঞ্চিত হচ্ছে। আর রাত দুপুরে হলে তো কথাই নেই। ঠেলাঠেলি করে বাসে উঠা যে কি কষ্টকর তা শুধুমাত্র ভুক্তভোগীরাই জানে।

অথচ পুরুষদের চাইতে মহিলারা বেশী কাজ করে। অনেকেই মেয়েদের কটাক্ষ করে বলেন এরকমভাবে যেতে না পারলে প্রাইভেট গাড়ীতে করে যেতে পারেন না। আশ্চর্য্ লাগে যখন কোন শিক্ষিত লোকের মুখে এসব কথা শুনতে হয়। ওরা মেয়েদের সাথে ঠেলাঠেলি, গাদাগাদি আর অভদ্রতা করবে, নিজেরা সংশোধিত না হয়ে আবার মেয়েদেরকে কটাক্ষ করবে। যে পুরুষের মেয়ে ষ্কুলে, কলেজে কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন গাড়ীতে চড়ে, তারা কেন একবারও চিন্তা করে না, মেয়েদের, মহিলাদের সম্মান করা উচিত। মহিলা সিটে বসছে তো কি হয়েছে, মহিলা বাসে উঠলে স্বসম্মানে সিট ছেড়ে দেয়া উচিত নয় কি?

অন্তত এতটুকু ভদ্রতা একজন পুরুষ মানুষের কাছ থেকে প্রত্যাশা করা নিশ্চয়ই অস্বাভাবিক কিছু না। অথচ মহিলাদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয় মহিলাদের জন্য কিছু সিট বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও। কিন্তু কেন? আমাদের দেশে মহিলাদের সম্মান করবে কি অসম্মানের বোঝা বয়ে বেড়াতে হয় মহিলাদের প্রতিনিয়ত। এ কারণে মহিলাদের জন্য আলাদা পর্যাপ্ত মহিলা বাস সার্ভিস চালু করে পরিবহন সংকট দূর করা সময়ের অপরিহার্য দাবি। মেয়েদের জন্য আলাদা পরিবহন চালু করা না হলে ষ্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় এবং চাকুরীজীবি মেয়েরা এভাবে লাঞ্চিত হতেই থাকবে। এর প্রতিকার অবশ্যম্ভাবী।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক

বাংলাদেশ, ২১ জানুয়ারি ২০১৮ রবিবার, ০১:১০ পিএম


কন্যা মানেই বোঝা নয়, করবে তারা বিশ্ব জয়
   কন্যা মানেই বোঝা নয়, করবে তারা বিশ্ব জয়

ইলা মুৎসুদ্দী

আজ ৩০ সেপ্টেম্বর জাতীয় কন্যাশিশু দিবস। কন্যা মানেই বোঝা নয়, করবে তারা বিশ্ব জয়কন্যা শিশুর যথাযথ শিক্ষা, পুষ্টি, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ তথা সুষ্ঠু বিকাশকে সামনে রেখেই জাতীয় কন্যাশিশু দিবস’’ পালন শুরু হয়। ইভটিজিং, এসিড সহিংসতা এবং যৌন নির্যাতনসহ কন্যা শিশুর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা বন্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাই ছিল লক্ষ্য।

বিস্তারিত


সেরা রাঁধুনীর খোঁজে : বাছাইপর্ব শেষ পর্যায়ে
   সেরা রাঁধুনীর খোঁজে : বাছাইপর্ব শেষ পর্যায়ে

নারী ডেস্ক | কাছেদূরে ডটক

চট্টগ্রাম ও সিলেটে সেরা রাঁধুনী ১৪২৪-এর অডিশন সম্পন্ন হয়েছে গত ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর।

বিস্তারিত




ভিডিও (কাছেদূরে টিভি)

ফটো গ্যালারি

  বিজ্ঞাপন প্যানেল







  অনলাইন মতামত

  বিজ্ঞাপন প্যানেল