বুধবার - ২৯ আশ্বিন ১৪২৭ - ১৪ অক্টোবর ২০২০ - Oct 24, 2020
   শিক্ষা ও স্বাস্থ্য

শিশুদের প্রয়োজন প্রকৃতির মুক্ত আকাশ

শিশুদের প্রয়োজন প্রকৃতির মুক্ত আকাশ


শৈশব ডেস্ক | কাছেদূরে ডটকম

ইলা মুৎসুদ্দি :

আমরা যারা শহুরে বাসিন্দা তারা খুবই গর্ববোধ করি আমাদের সন্তানদের নিয়ে। কারণ আমার সন্তান সব জানে। কী কী জানে? কম্পিউটার চালাতে জানে, ল্যাপটপে বসে গেম খেলতে জানে, মোবাইল নিয়ে কল করতে জানে, ভিডিও গেম খেলতে জানে এক কথায় আধুনিক সব যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করতে পারে আমার সন্তান।

কিন্তু আমরা কখনো কি ভেবে দেখেছি এসব দিয়ে শিশুদেরকে আমরা কতটুকু প্রতিবন্ধী বানিয়ে ফেলছি। প্রতিবন্ধী বলছি এই অর্থে ----শিশুটি একটি গন্ডির মধ্যে সর্বদা আবদ্ধ হয়ে আছে। বাইরের জগৎ সম্পর্কে সে কিছুই জানে না। জানে শুধু গাদা গাদা বইয়ের বোঝা টেনে নিয়ে অনিচ্ছাসত্ত্বে সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ঘুমজড়ানো চোখে দৌড়ে দৌঁড়ে ষ্কুলে যাওয়া। ষ্কুল থেকে এসে কোচিং, প্রাইভেট টিউটর, গানের ক্লাসে, নাচের ক্লাসে দৌঁড়াদৌঁড়ি করতে করতেই নিজেদের আনন্দ বলতে কিছুই থাকে না।

ওরা কখনো নিজেদের ইচ্ছেমতো কিছুই করতে পারে না। পারে না তারা সময়মত খেলতে, দৌঁড়াতে। তাহলে তারা কী হবে? তাদেরকে আমরা কখনো প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে যাই না। তাদেরও ইচ্ছে করে সবুজের মধ্যে প্রকৃতির রং নিয়ে খেলতে। দিগন্তজোড়া মাঠে ঘুড়ি উড়াতে, ইচ্ছেমতো খেলতে। সেজন্য দেখা যায়, যখন ছেলে-মেয়েরা গ্রামে যায়, তখন সে কি হাসিখুশী আর আনন্দ ওদের চোখেমুখে। কেন এত আনন্দ হয় তখন? কারণ একটাই, খোলা আকাশের নীচে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে শিশুরা মোহিত হয়ে থাকে। একটু খেয়াল করলেই দেখবেন, ওরা গ্রামের পরিবেশে গেলে কেমন জানি বদলে যায়। যা খেতে দেয়া হয় তাই খায়। এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ায় মনের আনন্দে। কাদা মাখা গায়ে কি সুন্দর দৌঁড়ায়, পুকুরে সাঁতার কাটে, লাফালাফি করে।

আমরা ষ্কুল ছুটি পেলেও কখনো শিশুদের গ্রামের বাড়ী বেড়াতে নিয়ে যাবার কথা ভাবি না। সবার গ্রামের বাড়ী যে দূর-দূরান্তে  তা কিন্তু নয়। আমরা ছুটি হলে শিশু পার্কে নিয়ে যাই, অনেক টাকা খরচ করি  ওদের পিছনে। এতে কিন্তু ওরা সাময়িক খুশী হয় মাত্র। এর দ্বারা ওদের কোন উপকার হয় না। বরং ওরা মাঝে মাঝে খুবই বিরক্ত হয়ে যায়। আমরা বলি আজকালকার বাচ্চাদের মেজাজ খুবই খিটখিটে। কিন্তু কেন খিটখিটে হয় সেটা দেখছি না। আর একটি দিক একটু পর্যবেক্ষণ করলে দেখবেন, শহুরে বাচ্চারা সবসময় খাবার নিয়ে নানারকম বায়না করে অথচ গ্রামের শিশুরা কিন্তু এরকম করে না। কেন করে? কারণ গ্রামের শিশুরা প্রাকৃতিক পরিবেশে খেলতে পারে, দৌড়াতে পারে। প্রকৃতির বিভিন্ন রং তাদের মন ছুঁয়ে যায়। তাই তাদের ক্ষিধাও লাগে। খাওয়াতেও সমস্যা হয় না তাদের।

এজন্য শিশুদের গ্রামের মুক্ত আকাশ দেখানো খুবই প্রয়োজন। প্রকৃতির কাছে শিশুদের ছেড়ে দিলে আপনা আপনিই তারা অনেকখানি সুস্থ সুন্দর জীবনের অধিকারী হবে। এখন বেশীরভাগ শিশুরা বিশেষ করে যারা শহুরে গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ তারা চোখে চশমা পড়ে ছোটকাল থেকেই। কারণ সারাদিন বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী (কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল) নিয়ে পড়ে থাকে। খেলাধুলার অবকাশ বিন্দুমাত্র নেই। আমরা ওদের জোর করে বেঁধে রেখেছি। কেড়ে নিচ্ছি ওদের জীবনের মূল্যবান সময় প্রকৃতির নিকট থেকে ওদের সরিয়ে দিচ্ছি।

একটা গন্ডির মধ্যে আটকে থাকতে থাকতে ওরা শৈশব পেরিয়ে যখন কৈশোরে পা রাখে তখন অনেকেই বিপথে চলে যায়। কেন বিপথে যায়? কারণ বদ্ধ জীবন তাদের ভালো লাগে না। তাই তারা স্বাধীনতা চায়। সেই স্বাধীনতা ভোগ করতে গিয়ে সন্তানেরা কৈশোরে বিপথে পা বাড়ায়। অনেকে ষ্কুল ফাঁকি দিয়ে গেম খেলতে চলে যায়। অনেকে বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়ে। আমরা যদি সন্তানদের শৈশব থেকে প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে যাই সবসময়, মুক্ত আকাশে নীল দিগন্তে , প্রকৃতির বাতাসে তাদের ছেড়ে দিই তাহলে তাদের মনটা হবে আকাশের মতো উদার।

তারা তখন ষ্কুল বন্ধুদের সাথে একটি পেন্সিল নিয়ে ঝগড়া করবে না। মারামারি করবে না একটি মোবাইলের জন্য। তারা বুঝে নিবে একটি পেন্সিলের চাইতে বন্ধুত্বের মূল্য অনেকখানি। প্রকৃতি অনেককিছু শিখিয়ে দেয়। তাই আমাদের উচিত শিশুদের সোনালী শৈশব, মুক্ত আকাশ আর প্রকৃতির সবুজ শ্যামল ছায়া আমরা যেন কেড়ে না নিই। তাদের অধিকার তাদের ফিরিয়ে দিতে হবে। তাদেরও আছে অধিকার --- সবুজের সমারোহে প্রকৃতির মুক্ত আকাশে নীল দিগন্তে  হাত বাড়াবার।

একটি শিশু পৃথিবীতে আসে বিশাল সম্ভাবনা নিয়ে। তবে এ সম্ভাবনার বিকাশ কতটুকু ঘটবে তার অনেকটাই শিশুর পরিবার, সমাজ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার ওপরই নির্ভর করে। সুস্বাস্থ্য, সুশিক্ষা, নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও ভালোবাসার দাবি পূরণ করে প্রতিটি শিশুকে শারীরিক ও মানসিকভাবে পূর্ণ বিকশিত করে তোলা সম্ভব। সন্তানকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পরিবার যদি সঠিক ভূমিকা পালন করে, তাহলে একটি সুন্দর-সমৃদ্ধ রাষ্ট্র ও জাতি পাওয়া সম্ভব।

বর্তমানে পারিবারিক-সামাজিক মূল্যবোধ ও ঐতিহ্য লুপ্ত হওয়ার পথে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আমরা সকলেই বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে খুবই স্বার্থপর। একই সমাজে একই সাথে থেকেও আজ কেউ কারও নয়। পরিবারগুলোর ক্ষেত্রেও অভিন্ন অবস্থা বিরাজমান। বিচ্ছিন্নতা যেমন গ্রাস করেছে সমাজ জীবনকে; একইভাবে গ্রাস করেছে পরিবারকেও। একটি শিশুর সবচেয়ে বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হল তার পরিবার।

সুস্থ ও সুন্দর জাতি গঠন করতে হলে সবার আগে পরিবারকে সচেতন হতে হবে। পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও খেয়াল রাখতে হবে কোনো শিক্ষার্থী বিপথগামী হচ্ছে কিনা। বর্তমানে শিশুরা ক্রমেই প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। প্রকৃতির সঙ্গে তাদের দূরত্ব বাড়ছে দিন দিন। সভ্যতার অগ্রগতি এবং মানুষের শহরকেন্দ্রিকতা এজন্য অনেকাংশে দায়ী। ব্যস্ততা ও বাস্তবতার নাগপাশ ছিন্ন করে অভিভাবকরা মাঝে মধ্যে তাদের প্রিয় সন্তানকে যথাসম্ভব প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারেন। শিশুরা নগরে বেড়ে উঠুক, তবে তার পরিচয় ও সম্পর্ক থাকুক প্রকৃতির সঙ্গেও। রাষ্ট্রকে ভাবতে হবে যেন যথাযথ পরিবেশে শিশু-কিশোররা সঠিক শিক্ষা গ্রহণ করে বেড়ে উঠতে পারে।

তাইতো কবি বলেছেন ------

থাকবো নাকো বদ্ধ ঘরে

দেখবো এবার জগতটাকে,

কেমন করে ঘুরছে মানুষ

যুগান্ত রের ঘুর্ণিপাকে।


লেখক : প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক


বাংলাদেশ, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ মঙ্গলবার, ০৮:০১ পিএম


নৈতিক অবক্ষয় রোধ : কৈশোর থেকে তারুণ্য
   নৈতিক অবক্ষয় রোধ : কৈশোর থেকে তারুণ্য

শৈশব ডেস্ক | কাছেদূরে ডটকম

ইলা মুৎসুদ্দি :

আমরা যখন দেখি একটা ২০-২২ বছরের যুবক সিগারেট, মদ কিংবা অন্যান্য নানা নেশায় মত্ত হয়ে আছে, তখন আমরা বলি তরুণ সমাজ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাকে রুখতে হবে। আমরা গোড়াতেই গলদ করি। কারণ আমরা শৈশব থেকে কৈশোর বয়সের সময়টাকে উপেক্ষা করে যাই।

বিস্তারিত


ঘরে বসেই ইংরেজি ও আইইএলটিএস কোর্স
   ঘরে বসেই ইংরেজি ও আইইএলটিএস কোর্স

এমরানুর রহমান তুষার

করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর কারণে আজ থেমে গেছে পুরো বিশ্ব। বিশ্বের অনেক দেশেই যোগাযোগ ব্যবস্থা, অর্থনীতির পাশাপাশি বন্ধ আছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও।

বিস্তারিত


ইংরেজি ও আইইএলটিএসে দক্ষ হোন নিজে নিজেই
   ইংরেজি ও আইইএলটিএসে দক্ষ হোন নিজে নিজেই

এমরানুর রহমান তুষার

ক্যারিয়ার গড়ার জন্য জীবনে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি যে কয়েকটি দক্ষতা বা যোগ্যতার প্রয়োজন সেগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ইংরেজি ভাষা জানা।

বিস্তারিত


শিশুদের শাস্তি দেওয়ার প্রবণতা বাংলাদেশি সংস্কৃতি থেকেই এসেছে
   শিশুদের শাস্তি দেওয়ার প্রবণতা বাংলাদেশি সংস্কৃতি থেকেই এসেছে

শৈশব ডেস্ক | কাছেদূরে ডটকম

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের শাস্তি দেওয়ার প্রবণতা বাংলাদেশি সংস্কৃতি থেকেই এসেছে বলে মনে করেন শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা। তবে আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে শিশুদের শারীরিক শাস্তি দেওয়া নিষিদ্ধ। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, দেশের ৬৭ শতাংশ অভিভাবক তাদের সন্তানদের শৃঙ্খলিত করতে স্কুলে শারীরিক শাস্তি দেওয়াকে সমর্থন করেন। যাদের ৭৯ শতাংশই স্বীকার করেছেন, তারা বাড়িতেও সন্তানদের শারীরিক শাস্তি দিয়ে থাকেন।

বিস্তারিত


কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ধাক্কা : শঙ্কায় বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা দেশগুলো!
   কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ধাক্কা : শঙ্কায় বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা দেশগুলো!

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | কাছেদূরে ডটকম

করোনাভাইরাস মহামারী শেষ হতে অনেক দেরি। কিছু দেশ এখনও মহামারী নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। আর ভাইরাসটির বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করতে পারা দেশগুলো এখন শঙ্কায় আছে সেকেন্ড ওয়েভ বা করোনাভাইরাস মহামারীর পরের পর্যায়ের ধাক্কা নিয়ে।

বিস্তারিত


মন্ত্রিসভার বৈঠকে অসুস্থ হয়ে আইভরি কোস্টের প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু
   মন্ত্রিসভার বৈঠকে অসুস্থ হয়ে আইভরি কোস্টের প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু

নিউজ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক | কাছেদূরে ডটকম

মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠক চলাকালীন অসুস্থ হওয়ার পর মারা গেছেন আইভরি কোস্টের প্রধানমন্ত্রী আমাদু গোন কুলিবালি।

বিস্তারিত


শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়লো ৬ আগস্ট পর্যন্ত
   শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়লো ৬ আগস্ট পর্যন্ত

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | কাছেদূরে ডটকম

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

বিস্তারিত


মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স দিয়েই চলছে অর্ধেকের বেশি বেসরকারি হাসপাতাল
   মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স দিয়েই চলছে অর্ধেকের বেশি বেসরকারি হাসপাতাল

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | কাছেদূরে ডটকম

প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতালের প্রতিবছর লাইসেন্স নবায়নের বাধ্যবাধকতা থাকলেও ৫০ ভাগ বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের লাইসেন্স মেয়াদোত্তীর্ণ । এছাড়াও কমপক্ষে শতকরা ১০ ভাগ হাসপাতালের কোনো লাইসেন্সই নাই৷ গত দুই বছরে লাইসেন্স বাতিল হয়েছে মাত্র একটি হাসপাতালের৷ খবর ডয়চে ভেলের।

বিস্তারিত


রূপ পাল্টেছে করোনাভাইরাস: আরও সংক্রামক হতে পারে
   রূপ পাল্টেছে করোনাভাইরাস: আরও সংক্রামক হতে পারে

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ডেস্ক | কাছেদূরে ডটকম

ফ্লোরিডার একদল গবেষক মনে করছেন, তারা দেখাতে পেরেছেন যে নতুন করোনাভাইরাস এমনভাবে পরিবর্তিত হয়েছে যাতে এটি আরও সহজে মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে।

বিস্তারিত


কাছেদূরে লাইভ: এ মুহূর্তে ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষা গ্রহণের বিকল্প নেই
   কাছেদূরে লাইভ: এ মুহূর্তে ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষা গ্রহণের বিকল্প নেই

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | কাছেদূরে ডটকম

বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ এর সংক্রমণে স্থবির হয়ে পড়েছে সমগ্র বিশ্ব। স্থবিরতার এ সময়ে শিক্ষাক্ষেত্রে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হতে চলেছে।

বিস্তারিত




ভিডিও (কাছেদূরে টিভি)

ফটো গ্যালারি

  বিজ্ঞাপন প্যানেল







  অনলাইন মতামত

  বিজ্ঞাপন প্যানেল